বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
Homeঅপরাধমানবিক ডাক্তার কামরুলের কাছে চাঁদা দাবি, সারাদেশে তোলপাড়

মানবিক ডাক্তার কামরুলের কাছে চাঁদা দাবি, সারাদেশে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারেরও বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করা আলোচিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে মঈন উদ্দিন নামের এক স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দেন। তবে ঘটনার পরপরই গত শুক্রবার রাতে ওই চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান যুবদলের শীর্ষ নেতারা। চাঁদা চাওয়া ওই ব্যক্তি যুবদলের নয় জানিয়ে এই ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা। গতকালও দিনভর বিষয়টি ছিল ব্যাপক আলোচিত।

জানা গেছে, মঈন উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি শ্যামলীর চার নম্বর রোডের বাসিন্দা। স্থানীয় হওয়ায় তিনি শ্যামলীতে ডা. কামরুল ইসলামের সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।

 

 

রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর মঈন ওই হাসপাতালে খাবার সরবরাহের কাজ নেন। প্রথমদিকে সবকিছু ঠিকঠাক চললেও গত মাস থেকে তিনি সরবরাহকৃত খাবারের দাম বেশি রাখতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ডা. কামরুল ইসলাম তাকে বাদ দেন এবং নিজে কেনাকাটা তদারকি শুরু করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মঈন। তিনি লোকজন নিয়ে ওই হাসপাতালে এসে কর্মীদের হুমকি ধামকি দেন এবং পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পাশাপাশি ডা. কামরুল ইসলামকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাকে এবং তার কয়েকজন কর্মীকে হাসপাতাল থেকে বের করার চেষ্টা চালান।

এরই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার মঈন উদ্দিন সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালের সামনে ৬০/৭০ জন লোকজন নিয়ে এসে ডা. কামরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, চাঁদা দাবির ঘটনা জানাজানি হলে শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধিদল সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে গিয়ে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তখন তারা সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত শোনার পর জানান, ‘ওই ব্যক্তি যুবদলের কেউ নন। তিনি সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে খায়।’ এ সময় যুবদলের শীর্ষ নেতারা র‌্যাবের এক কর্মকর্তাকে ফোন করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ডা. কামরুল ইসলামকে আশ্বস্ত করেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজ, দখলবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।

গতকাল বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা করছি।

অপরাধ জগত24/এআইএ

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments