এস এম আমিরুল ইসলাম আসিফ: বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, যা বৈশ্বিক মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪.৪৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং করোনা-পরবর্তী প্রভাব এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
২১ মে ২০২৬ সালে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী The Lancet-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে Institute for Health Metrics and Evaluation (আইএইচএমই) এবং The University of Queensland-এর গবেষকরা।
গবেষণাটি ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ (GBD)’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এটি এখন পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে করা সবচেয়ে বিস্তৃত বৈশ্বিক বিশ্লেষণগুলোর একটি।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের হিসাব অনুসারে বিশ্বে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত। ১৯৯০ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, Worldometer-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮৩০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। সেই হিসেবে বিশ্বের প্রতি সাতজন মানুষের মধ্যে অন্তত একজন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ‘অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার’ বা উদ্বেগজনিত সমস্যা এবং ‘মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার’ বা গুরুতর বিষণ্নতা। বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মানসিক সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এছাড়া নারীদের মধ্যেও এ সমস্যার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পারিবারিক সহিংসতা, বৈষম্য এবং কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্য সংকট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। পাশাপাশি, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়ায় আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ এখন শনাক্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে এটি আরও বড় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। এজন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, তরুণদের জন্য কাউন্সেলিং সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সহমর্মিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
তথ্যসূত্র: দ্য ল্যানসেট, আইএইচএমই, গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ (GBD), ওয়ার্ল্ডোমিটার।
অপরাধ জগত24/এআইএ
